পর্নোগ্রাফি তৈরির জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১২’ সংসদে পাস হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের চলতি ১২তম অধিবেশনের ১৮তম কার্যদিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব নাকচ হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে চলচ্চিত্র, স্যাটেলাইট, ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি মারাত্মক ব্যাধির মতো দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। পর্নোগ্রাফি যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর শিকার হয়ে অনেক নারী, পুরুষ ও শিশুকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও আইন না থাকায় অপরাধ রোধ ও অরপাধীদের বিচার করা সম্ভব হচ্ছে না। বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’
বিলে পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞা, বিচারিক আদালত, বিচার ও আপিল পদ্ধতি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের শাস্তি, তদন্ত ও তল্লাশি পদ্ধতি ও অপরাধের আমল যোগ্যতার বিষয়টি সন্নিবেশিত করা হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। গত ২ জানুয়ারি বিলটির চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ। পরে ২৯ জানুয়ারি বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বিলে বলা হয়েছে, ‘যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোনও অশøীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অধনগ্ন নৃত্য যা চলচ্চিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও ভিজুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনও উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যার কোনও শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই।’এছাড়া ‘যৌন উত্তেজনা ’ সৃষ্টিকারী অশøীল বই, সাময়িকী, ভাষ্কর্য, কল্পমূর্তি, মূর্তি, কার্টুন বা লিফলেট বা এগুলোর নেগেটিভ বা সফট ভার্সনও পর্নোগ্রাফির আওতাভুক্ত হবে। বিলে বলা হয়েছে, ‘পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, বহন, সরবরাহ, ক্রয়-বিক্রয় ও প্রদর্শন করা যাবে না।’
পর্নোগ্রাফির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বা তার সম-মর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে আরও ১৫ দিন এবং আদালতের অনুমোদন পাওয়া গেলে আরও ৩০ দিন পর্যন্ত সময় নেওয়া যাবে। বিলের ৬ নম্বর দফায় জানানো হয়েছে, এ জাতীয় অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনও ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার বা কোনও পর্নোগ্রাফি সরঞ্জাম জব্দের জন্য তলøাশি চালানো যাবে।
কোনও ব্যক্তি পর্নোগ্রাফি উৎপাদন বা এ উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ করে চুক্তিপত্র তৈরি করলে অথবা কোনও নারী, পুরুষ বা শিশুকে প্রলোভন দিয়ে জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে স্থির, ভিডিও বা চলচ্চিত্র ধারণ করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে কারও মর্যাদাহানি বা কাউকে ব্ল্যাকমেইল করা হলে এমনকি এ জাতীয় কিছু সংরক্ষণ বা পরিবহন করা হলেও দুই থেকে ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১ থেকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা।
শিশুদের ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি শা¯িÍর বিধান রাখা হয়েছে। এদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। বিলের ৮ নম্বর দফার ৭ নম্বর উপ-দফায় বলা হয়েছে, পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তাকারীদেরও শা¯িÍর আওতায় আনা যাবে।
কেউ এই অপরাধে দায়ী সাব্যস্ত হলে ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল করতে হবে। এছাড়া বিলে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরকারীকেও শাস্তির আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে এই আইনের খসড়া ২০১০ সালের জুলাই মাসে প্রথমবারে মতো মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। ওই সময় সাতটি মন্ত্রণালয়ের লিখিত মতামত নেওয়ার জন্য এটি ফেরত পাঠানো হয়। পরে গত বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সাত মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে খসড়াটি সংশোধন করা হয়।
এরপর গত মে মাসে এটি পুনরায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওঠে। এরপর এটি ভেটিংয়ের জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হয়। গত ১৫ নভেম্বর এটি আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে আসে। বাংলানিউজ
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে চলচ্চিত্র, স্যাটেলাইট, ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি মারাত্মক ব্যাধির মতো দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। পর্নোগ্রাফি যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর শিকার হয়ে অনেক নারী, পুরুষ ও শিশুকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও আইন না থাকায় অপরাধ রোধ ও অরপাধীদের বিচার করা সম্ভব হচ্ছে না। বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’
বিলে পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞা, বিচারিক আদালত, বিচার ও আপিল পদ্ধতি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের শাস্তি, তদন্ত ও তল্লাশি পদ্ধতি ও অপরাধের আমল যোগ্যতার বিষয়টি সন্নিবেশিত করা হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। গত ২ জানুয়ারি বিলটির চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ। পরে ২৯ জানুয়ারি বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বিলে বলা হয়েছে, ‘যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোনও অশøীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অধনগ্ন নৃত্য যা চলচ্চিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও ভিজুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনও উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যার কোনও শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই।’এছাড়া ‘যৌন উত্তেজনা ’ সৃষ্টিকারী অশøীল বই, সাময়িকী, ভাষ্কর্য, কল্পমূর্তি, মূর্তি, কার্টুন বা লিফলেট বা এগুলোর নেগেটিভ বা সফট ভার্সনও পর্নোগ্রাফির আওতাভুক্ত হবে। বিলে বলা হয়েছে, ‘পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, বহন, সরবরাহ, ক্রয়-বিক্রয় ও প্রদর্শন করা যাবে না।’
পর্নোগ্রাফির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বা তার সম-মর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে আরও ১৫ দিন এবং আদালতের অনুমোদন পাওয়া গেলে আরও ৩০ দিন পর্যন্ত সময় নেওয়া যাবে। বিলের ৬ নম্বর দফায় জানানো হয়েছে, এ জাতীয় অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনও ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার বা কোনও পর্নোগ্রাফি সরঞ্জাম জব্দের জন্য তলøাশি চালানো যাবে।
কোনও ব্যক্তি পর্নোগ্রাফি উৎপাদন বা এ উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ করে চুক্তিপত্র তৈরি করলে অথবা কোনও নারী, পুরুষ বা শিশুকে প্রলোভন দিয়ে জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে স্থির, ভিডিও বা চলচ্চিত্র ধারণ করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে কারও মর্যাদাহানি বা কাউকে ব্ল্যাকমেইল করা হলে এমনকি এ জাতীয় কিছু সংরক্ষণ বা পরিবহন করা হলেও দুই থেকে ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১ থেকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা।
শিশুদের ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি শা¯িÍর বিধান রাখা হয়েছে। এদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। বিলের ৮ নম্বর দফার ৭ নম্বর উপ-দফায় বলা হয়েছে, পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তাকারীদেরও শা¯িÍর আওতায় আনা যাবে।
কেউ এই অপরাধে দায়ী সাব্যস্ত হলে ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল করতে হবে। এছাড়া বিলে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরকারীকেও শাস্তির আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে এই আইনের খসড়া ২০১০ সালের জুলাই মাসে প্রথমবারে মতো মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। ওই সময় সাতটি মন্ত্রণালয়ের লিখিত মতামত নেওয়ার জন্য এটি ফেরত পাঠানো হয়। পরে গত বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সাত মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে খসড়াটি সংশোধন করা হয়।
এরপর গত মে মাসে এটি পুনরায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওঠে। এরপর এটি ভেটিংয়ের জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হয়। গত ১৫ নভেম্বর এটি আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে আসে। বাংলানিউজ